Screenshot

বহু ভেষজ গুণে গুণাম্বিত দুটি প্রাকৃতিক উপাদান হচ্ছে মধু এবং কালোজিরা। মধু ও কালোজিরার উপকারিতার গুণের কারণে সর্বজন সমাদৃত দুটি খাদ্য উপাদান। মধুর উপকারিতা সম্পর্কে পবিত্র আল কুরআনের সূরা নাহল এর ৬৯ তম আয়াতে বলা হয়েছে-‘আর মৌমাছির পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানি নির্গত হয়, যা মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার।’ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, কুরআন হলো যেকোনো আত্মিক রোগের জন্য আর মধু হলো দৈহিক রোগের জন্য। ইবনে মাজাহ। রসুলুল্লাহ (সা.) মধুর ব্যবহার সম্পর্কে একে 'খাইরুদ্দাওয়া' বা মহৌষধও বলেছেন। বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসক ইবনে সিনা তাঁর বিশ্বখ্যাত- Medical Test book দ্যা কেনন অফ মেডিসিন গ্রন্থে বহু রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মধুর গুনাগুন ও উপকারিতা সম্পর্কে বলেছেন, মধু মানুষকে সুখী করে, পরিপাকে সহায়তা করে, ঠান্ডার উপশম করে, ক্ষুধা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও তীক্ষ্ম করে, জিহ্বা স্পষ্ট করে। তাছাড়া গ্রন্থে মধু ব্যবহারে যৌবন রক্ষার উপায় সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে।

প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও রোগের ঔষধ হিসেবে মধু ব্যবহার হয়ে আসছে। পৃথিবীর সকল খাবারের পুষ্টিগুণ ও উপাদেয়তার দিকটি বিবেচনা করে তালিকা করলে, মধুর নাম সে তালিকার প্রথম সারিতেই থাকবে। শুধু যে ঔষুধ কিংবা খাদ্য হিসেবে মধুর গুণাগুণ রয়েছে তা ‍কিন্তু নয়, মধু ত্বক ও চুলের জন্য অর্থাৎ রুপচর্চায় মধু অনেক কার্যকরী। প্রকৃতির এই অনন্য উপাদানটি কখনও নষ্ট হয় না। তাছাড়া ওজন কমাতেও মধু অতুলনীয়। মধু হারবাল ঔষধ হিসেবে অনেক গুরুত্বপুর্ণ।

এছাড়া বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমানিত হয়েছে যে, মধু অত্যন্ত উপকারী এবং নিয়মিত মধু সেবন করলে অসংখ্য রোগবালাই হতে পরিত্রান পাওয়া যায় । বাচ্চা জন্মের পরপরই দাদী-নানীরা মুখে মধু দেয়ার প্রচলন বহু আগে ধেকেই হয়ে আসছে। আমাদের শরীরের সুস্থতায় মধুর উপকারিতা অতুলনীয়।

অন্যদিকে, কালোজিরা ও কালোজিরা তেল বিভিন্ন রোগের মহা ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । ইসলামের দৃষ্টিতে রাসূল (সা.)-এর যুগ থেকেই মুসলমানগণ কালোজিরার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করে আসছেন। কালিজিরা সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা কালোজিরার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করো। কেননা তাতে মৃত্যু ব্যতীত সব রোগের নিরাময় রয়েছে। সহি বুখারি।

আয়ুর্বেদিক, ইউনানি ও কবিজারি চিকিৎসাতেও কালো জিরার ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে। মসলা হিসেবেও এর চাহিদা অনেক। কালোজিরার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়, যা মানব শরীরের জন্য খুব উপকারি। এতে আছে ফসফেট,লৌহ,ফসফরাস। এছাড়া এতে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক কেরটিন , বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান এবং অম্ল রোগের প্রতিষেধক। মেডিসিন বই গুলোতেও কোন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে সেখানেকালো জিরার জাদুকরী শক্তির কথা উল্লেখ করা আছে।



কালোজিরার ঔষধি গুন অনেক। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ কালোজিরা আপনার মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রক্ত সঞ্চালন ও বৃদ্ধি সঠিকভাবে করবে এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখবে। চুল পড়া, চুল পাকা,টাক এবং চুলে খুসকির সমস্যা এই ৪ টি বিষয়ে কালোজিরার তেল অনেক বেশী কার্যকরী। মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মাথা ঝিমঝিম করা কালোজিরার তেল হালকা ভাবে মালিশ করে দিলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আর নিয়মিত অল্প পরিমাণ কালোজিরা খেতে পারলে ডায়াবেটিস, রক্তের চাপ ও কোলেষ্টরেল নিয়ন্ত্রণ রাখে। কালোজিরা স্মরণশক্তি বা বুদ্ধি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। দাঁতের যে কোন সমস্যায় হালকা ভাবে কালোজিরার তেল লাগালে ব্যাথা দূর হয়ে যাবে। যৌনশক্তি বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে বর্ণনায় কালোজিরা হরমোন সমৃদ্ধ হওয়ায় পুরুষত্বহীনতায় বা নারী-পুরুষের যৌন অক্ষমতায় নিয়মিত কালোজিরা সেবনে যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায়।

শুধু ছাড়াও ত্বক ও চুলের বিভিন্ন সমস্যার জন্য কালোজিরা ব্যবহার কার যায়। তিলের তেলে কালোজিরা
চুল পড়া কমায়, ত্বকের তারুণ্যে ফিরিয়ে আনে। কালোজিরার পেস্ট ব্রণ সমস্যায় অনেক উপকারি।

এছাড়া জানা অজানা অনেক রোগ আছে যা কালজিরা নিয়মিত ব্যাবহারে সব ধরনের রোগ সেরে উঠবে, তাই নিয়মিত কালজিরা ব্যাবহারে করুন। কালোজিরার ব্যবহার বিধি ও কালোজিরার অসাধারণ সব স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের এই অ্যাপ থেকে জানতে পারবেন। এছাড়া কালোজিরা খাবার নিয়ম,কালোজিরা কিভাবে খেতে হয়, কালোজিরা খাওয়ার পদ্ধতি, কালোজিরার ব্যবহার, কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা । আমাদের এই কালো জিরার উপকারিতা অ্যাপে খুব গোছালো ভাবে সুবিন্যস্ত করে কালোজিরার ব্যবহার দেওয়া হয়েছে।

মধু ও কালো জিরার স্বাস্থ্য বার্তা / তথ্য সম্পর্কে জানতে অামাদের মধু ও কালোজিরার উপকারিতা অ্যাপটি ডাউনলোড করুন এবং আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তাদের জানার সুযোগ করে দিন।

Download link:
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.royal_bengal_apps.benefits_of_honey_and_kalojira